February 22, 2026, 10:35 pm
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে সূচকের সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও সার্বিক চিত্রে প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি। লেনদেন কিছুটা বাড়লেও অধিকাংশ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে। ফলে সূচকের সবুজ সংকেতের আড়ালে বাজারে চাপ ও সতর্কতার আবহই বেশি স্পষ্ট হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ নতুন বিনিয়োগে ধীর অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে সেই গতি এখনো দৃশ্যমান নয়। আগের সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচকের উত্থান কিছুটা আশাবাদ তৈরি করলেও পরবর্তী চার কার্যদিবস টানা পতনে সেই আস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৭ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ০ দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৪ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে নেমেছে। অপরদিকে ব্লু-চিপভিত্তিক ডিএসই-৩০ সূচক ৬ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০৪ দশমিক ১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ বড় মূলধনি কিছু শেয়ারের দামে ঊর্ধ্বগতি সূচককে ইতিবাচক রেখেছে, কিন্তু বাজারের বিস্তৃত অংশে সেই প্রভাব পড়েনি।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১২৩টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১৯৪টির কমেছে এবং ৭১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। দরপতন হওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাজারে ব্যাপক অংশগ্রহণভিত্তিক শক্তি ফিরে আসেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬৮ কোটি ৮ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৮ কোটি টাকা বেশি। যদিও এই বৃদ্ধি খুব বড় নয়, তবু টানা পতনের পর লেনদেনে সামান্য গতি বাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এ সূচক ও দরপতনের চাপ আরও স্পষ্ট। এদিন সেখানে ১৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৩২৭ দশমিক ০৮ পয়েন্টে নেমেছে। আগের কার্যদিবসেও সূচকটি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছিল।
সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪০টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ৯৩টির কমেছে এবং ১৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। দুই বাজারের চিত্রই বলছে, সূচকের সীমিত উত্থান সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় এখনো দৃঢ়তা আসেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা না থাকলেও শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতা, বাড়তি লেনদেন এবং বিস্তৃত অংশগ্রহণ। আপাতত সেই গতির বদলে সতর্ক ও অপেক্ষাকৃত নিস্তেজ ছন্দেই এগোচ্ছে শেয়ারবাজার।
ইএটি
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.